দীপান্বিতা অমাবস্য়া ও আগত প্রায় আলোর উৎসব
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:দীপাবলি মানে আমরা সাধারণত জানি কালী আর লক্ষ্মীপুজো। আমরা জানি না-এই সময় মোট কতজন দেবতার পুজো হয়ে থাকে। সারা ভারতে এই সময় নানা দেবতার পুজো হয়ে থাকে। তারই একঝলক তুলে ধরা হল। আগত প্রায় আলোর উৎসব দীপাবলি বা দিওয়ালি। বিশেষ করে বাংলা সহ গোটা ভারতে ঘরে ঘরে
উৎসব পর্ব শুরু হয় ত্রয়োদশী থেকে ৷ এই দিন ধনতেরাস পালিত হয় ৷ পাশাপাশি এই দিন ধনদেবতা কুবেরের পুজো করা হয়ে থাকে। এ দিন সোনা বা কোনও ধাতু কেনা শুভ বলে গণ্য হয়। অনেকে পুজো না করলেও এ দিন সোনা কিনে থাকেন।এ দিন যা কেনা হয় তা দ্বিগুণ লাভ হয় জীবনে। আবার ধনতেরাসের পরদিন ভূত চতুর্দশী পালিত হয়। বাঙ্গালীরা মনে করেন বা বিশ্বাস করেন, এই সময় তাঁদের ১৪ পুরুষের প্রেতাত্মারা নেমে আসেন মর্ত্যলোকে। অনেকেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্য়ে তর্পণ করে থাকেন। অন্যদিকে চোদ্দ শাক খাওয়া ও ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার নিয়ম-নীতি রয়েছে। উল্লেখ করা যায়,মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভারতে চতুর্দশীর দিন পালিত হয় ছোটি দিওয়ালি ৷ শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রী সত্য়ভামার হাতে নিহত হন নরকাসুর ৷ তাই এই দিনকে নরক চতুর্দশীও বলা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে চতুর্দশীর পর দীপান্বিতা অমাবস্য়া ৷ এই দিনে পালিত হয় শ্য়ামাপুজো। বাঙালিরা মেতে ওঠেছিলেন কালীপুজোয় ৷ পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশের কিছু জেলায় কালীপুজোর বদলে হয়ে থাকে লক্ষীপুজো ৷ তার আগে হয়ে থাকে অলক্ষ্মী বিদায় ৷এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যা কিছু অশুভ তা অলক্ষ্মী ৷ তার কারণেই বাড়িতে লক্ষ্মী স্থাপন করা হয়ে থাকে।
পাশাপাশি দিওয়ালি অমাবস্যায় পালিত হয়ে থাকে।এক্ষেত্রে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে, ১৪ বছর বনবাসে কাটিয়ে এই অযোধ্য়ায় ফিরেছিলেন রামচন্দ্র। বলা হয়ে থাকে, রামচন্দ্রের পথ আলোকিত করতেই অমাবস্য়ার রাত সেজে ওঠে আলোয় ৷ এই দিন সুখ-সমৃদ্ধির জন্য় একসঙ্গে লক্ষী ও গণেশ পুজো হয়ে থাকে। আবার কথিত রয়েছে, দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে মথুরাবাসী প্রবল বৃষ্টিতে জেরবার হয়েছিল। ওই সময় নিজের কণিষ্ঠায় গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরে মথুরাবাসীকে স্বস্তি দিয়েছিলেন কৃষ্ণ ৷ তাই গোকুল ও মথুরায় পালিত হয়ে থাকে গোবর্ধন পুজো ৷

